Dhaka ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাফিয়া ব্যাগের আড়ালে মাদাগাস্কারের যে গল্প লুকিয়ে আছে

Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৪ Time View

ফিচার ডেস্ক: ইউরোপের বিভিন্ন সমুদ্রসৈকত থেকে শুরু করে প্যারিস কিংবা লন্ডনের মতো ফ্যাশন রাজধানীগুলোতে গ্রীষ্মের শুরুতে একধরনের নান্দনিক ব্যাগের ব্যবহার বেশ লক্ষণীয় হয়ে ওঠে। মাটির রঙের, ঝুড়ি বা ক্রোশে নকশার তৈরি এসব অনুষঙ্গ বিশ্বজুড়ে রাফিয়া ব্যাগ হিসেবে দারুণ পরিচিত। গত শতাব্দীর ষাটের দশকে বিখ্যাত ফ্যাশন আইকনদের হাত ধরে এই ধরনের ব্যাগের জনপ্রিয়তা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রাডা কিংবা সেন্ট লরেন্টের মতো বিশ্বখ্যাত বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর মাধ্যমে এটি ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে আরও বেশি সমাদৃত হয়।

ফ্যাশন দুনিয়ার এই জনপ্রিয় ব্যাগের মূল কাঁচামাল আসে পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কার থেকে। বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত মোট রাফিয়ার প্রায় ৮০ শতাংশই সরবরাহ করে থাকে এই দেশটি। এখানকার বিশাল আকৃতির রাফিয়া পামগাছের পাতা থেকে সংগৃহীত প্রাকৃতিক আঁশ দিয়ে এই ব্যাগ তৈরি করা হয়। গাছটির পাতা ছেঁড়ার পর ভেতরের নরম অংশ ছাড়িয়ে রোদে শুকানো হয়। এরপর দক্ষ কারিগরদের নিখুঁত হাতের ছোঁয়ায় হাজার হাজার সেলাই ও দীর্ঘ শ্রমের মাধ্যমে তৈরি হয় একেকটি আকর্ষণীয় ব্যাগ বা টুপি।

আন্তর্জাতিক বাজারে বিলাসবহুল এই উপাদানের কদর ও চাহিদা ব্যাপক হলেও এর পেছনের ইতিহাস ও কারিগরদের অবদান দীর্ঘদিন প্রচারের আড়ালে ছিল। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মাদাগাস্কারের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির অনিয়ন্ত্রিত সরবরাহ ব্যবস্থা স্থানীয় কারিগরদের স্বল্প মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য করে। শুধু তাই নয়, অপরিকল্পিতভাবে কাঁচামাল সংগ্রহের ফলে দেশটির পূর্ব উপকূলে বিপুল পরিমাণ বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই অর্থনৈতিক বৈষম্য ও পরিবেশগত সংকটের বিরুদ্ধে বর্তমানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক উদ্যোক্তা এলেন আকবারালি মাদাগাসkারে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, যেখানে পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক নারীদের উপযুক্ত মজুরির পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। এসব পণ্যের সঙ্গে থাকা বিশেষ কোডের মাধ্যমে ক্রেতারা জানতে পারেন কোন কারিগর কীভাবে পণ্যটি তৈরি করেছেন। এর ফলে বিশ্ববাজারে মাদাগাস্কার কেবল কাঁচামাল সরবরাহকারী দেশ নয়, বরং একটি সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রাফিয়া ব্যাগের আড়ালে মাদাগাস্কারের যে গল্প লুকিয়ে আছে

Update Time : ০১:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ফিচার ডেস্ক: ইউরোপের বিভিন্ন সমুদ্রসৈকত থেকে শুরু করে প্যারিস কিংবা লন্ডনের মতো ফ্যাশন রাজধানীগুলোতে গ্রীষ্মের শুরুতে একধরনের নান্দনিক ব্যাগের ব্যবহার বেশ লক্ষণীয় হয়ে ওঠে। মাটির রঙের, ঝুড়ি বা ক্রোশে নকশার তৈরি এসব অনুষঙ্গ বিশ্বজুড়ে রাফিয়া ব্যাগ হিসেবে দারুণ পরিচিত। গত শতাব্দীর ষাটের দশকে বিখ্যাত ফ্যাশন আইকনদের হাত ধরে এই ধরনের ব্যাগের জনপ্রিয়তা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রাডা কিংবা সেন্ট লরেন্টের মতো বিশ্বখ্যাত বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর মাধ্যমে এটি ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে আরও বেশি সমাদৃত হয়।

ফ্যাশন দুনিয়ার এই জনপ্রিয় ব্যাগের মূল কাঁচামাল আসে পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কার থেকে। বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত মোট রাফিয়ার প্রায় ৮০ শতাংশই সরবরাহ করে থাকে এই দেশটি। এখানকার বিশাল আকৃতির রাফিয়া পামগাছের পাতা থেকে সংগৃহীত প্রাকৃতিক আঁশ দিয়ে এই ব্যাগ তৈরি করা হয়। গাছটির পাতা ছেঁড়ার পর ভেতরের নরম অংশ ছাড়িয়ে রোদে শুকানো হয়। এরপর দক্ষ কারিগরদের নিখুঁত হাতের ছোঁয়ায় হাজার হাজার সেলাই ও দীর্ঘ শ্রমের মাধ্যমে তৈরি হয় একেকটি আকর্ষণীয় ব্যাগ বা টুপি।

আন্তর্জাতিক বাজারে বিলাসবহুল এই উপাদানের কদর ও চাহিদা ব্যাপক হলেও এর পেছনের ইতিহাস ও কারিগরদের অবদান দীর্ঘদিন প্রচারের আড়ালে ছিল। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মাদাগাস্কারের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির অনিয়ন্ত্রিত সরবরাহ ব্যবস্থা স্থানীয় কারিগরদের স্বল্প মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য করে। শুধু তাই নয়, অপরিকল্পিতভাবে কাঁচামাল সংগ্রহের ফলে দেশটির পূর্ব উপকূলে বিপুল পরিমাণ বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই অর্থনৈতিক বৈষম্য ও পরিবেশগত সংকটের বিরুদ্ধে বর্তমানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক উদ্যোক্তা এলেন আকবারালি মাদাগাসkারে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, যেখানে পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক নারীদের উপযুক্ত মজুরির পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। এসব পণ্যের সঙ্গে থাকা বিশেষ কোডের মাধ্যমে ক্রেতারা জানতে পারেন কোন কারিগর কীভাবে পণ্যটি তৈরি করেছেন। এর ফলে বিশ্ববাজারে মাদাগাস্কার কেবল কাঁচামাল সরবরাহকারী দেশ নয়, বরং একটি সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে।