Dhaka ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদা চাষে প্রণোদনা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৩ Time View

অর্থনীতি ডেস্ক: কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্যের উৎপাদন বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ফাঁকা জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে আদা চাষ সম্প্রসারণ এবং আম ও লিচু সংরক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় চাষি ও কৃষি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। সভায় প্রকৃত আদা চাষিদের তালিকা প্রস্তুত করে তাঁদের মাঝে বীজ, সার এবং বস্তা বিতরণের মাধ্যমে সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

মতবিনিময় সভায় কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনার পাশাপাশি আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা ও রপ্তানি বৃদ্ধির পরিকল্পনা তুলে ধরেন মন্ত্রী। প্রচলিত ফসলের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে নতুন ও লাভজনক ফসল উৎপাদনে কৃষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে আমবাগানের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় মাটিতে কিংবা বস্তায় আদা চাষের ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া তুলার সঙ্গে আদা ও হলুদ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে বর্ষাকালে টমেটো ও কাঁচামরিচ উৎপাদনের ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। পলিশেড ও আধুনিক গ্রাফটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই শাকসবজি চাষ বাড়ানোর কথা জানান মন্ত্রী। কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এর সঠিক বাজারজাতকরণ এবং ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়, যাতে উৎপাদকরা কোনোভাবেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

রাজশাহীর বিখ্যাত আম ও লিচুর সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়। বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে আম সংরক্ষণের মেয়াদ প্রাথমিক পর্যায়ে ৪৫ দিন এবং পরবর্তীতে ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া মাটির সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে জৈবসার ও ভার্মি কম্পোস্টের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বালাইনাশকের সীমিত ও পরিমিত প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কৃষি খাতের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

আদা চাষে প্রণোদনা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

Update Time : ১১:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্যের উৎপাদন বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ফাঁকা জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে আদা চাষ সম্প্রসারণ এবং আম ও লিচু সংরক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় চাষি ও কৃষি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। সভায় প্রকৃত আদা চাষিদের তালিকা প্রস্তুত করে তাঁদের মাঝে বীজ, সার এবং বস্তা বিতরণের মাধ্যমে সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

মতবিনিময় সভায় কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনার পাশাপাশি আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা ও রপ্তানি বৃদ্ধির পরিকল্পনা তুলে ধরেন মন্ত্রী। প্রচলিত ফসলের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে নতুন ও লাভজনক ফসল উৎপাদনে কৃষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে আমবাগানের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় মাটিতে কিংবা বস্তায় আদা চাষের ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া তুলার সঙ্গে আদা ও হলুদ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে বর্ষাকালে টমেটো ও কাঁচামরিচ উৎপাদনের ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। পলিশেড ও আধুনিক গ্রাফটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই শাকসবজি চাষ বাড়ানোর কথা জানান মন্ত্রী। কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এর সঠিক বাজারজাতকরণ এবং ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়, যাতে উৎপাদকরা কোনোভাবেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

রাজশাহীর বিখ্যাত আম ও লিচুর সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়। বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে আম সংরক্ষণের মেয়াদ প্রাথমিক পর্যায়ে ৪৫ দিন এবং পরবর্তীতে ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া মাটির সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে জৈবসার ও ভার্মি কম্পোস্টের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বালাইনাশকের সীমিত ও পরিমিত প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কৃষি খাতের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।