Dhaka ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

Reporter Name
  • Update Time : ১১:০০:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৩ Time View

প্রযুক্তি ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির কেবল ব্যবহারকারী হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলাদেশ যেন এর প্রয়োগ ও উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দিতে পারে, সেই লক্ষ্য অর্জনের ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দিকনির্দেশনা দেন। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় দর্শক হয়ে না থেকে সক্রিয় অংশীদার হওয়াটাই দেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। এআই-নির্ভর না হয়ে বরং এআই-সক্ষম, উদ্ভাবনসমৃদ্ধ এবং পুরোপুরি মানবকল্যাণমুখী একটি জাতি গঠনের মাধ্যমেই আগামীর বিশ্বে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও রূপান্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বহুমুখী ভূমিকার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান যে আগামী দশকে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে এই প্রযুক্তি গভীরভাবে প্রভাবিত করবে। উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, শিল্পের আধুনিকায়ন ঘটানো, রপ্তানি বাজার প্রসারিত করা এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এআইকে অত্যন্ত সুকৌশলে ব্যবহারের তাগিদ দেন তিনি। দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী এবং তাদের যদি যথাযথ প্রযুক্তিবান্ধব ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবে তারা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান সৈনিক হিসেবে আবির্ভূত হবে। আন্তর্জাতিক গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন যে আগামীতে বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য সংযোজন করতে চলেছে এআই, আর বাংলাদেশকেও এই বৈশ্বিক সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে।

ব্যবসায়ী সমাজ এবং করপোরেট খাতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেবল খরচ কমানোর হাতিয়ার হিসেবে দেখলে চলবে না, বরং নতুন পণ্য সৃষ্টি, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্মকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নীত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। তৈরি পোশাকশিল্প যেভাবে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে নতুন পরিচয় এনে দিয়েছে, তেমনি দেশের তরুণরা যদি এআই প্রযুক্তিতে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারে তবে তারা বিশ্বদরবারে দেশকে আরও উচ্চমাত্রায় পরিচিত করতে সক্ষম হবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি এর ঝুঁকি ও বেকারত্ব সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান যে ইতিমধ্যে মূল্যবোধকেন্দ্রিক একটি জাতীয় এআই নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এই নীতিমালায় মূলত নৈতিকতা, মানবাধিকার রক্ষা, ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে কেবল সরকারের প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব নয়, বরং এর জন্য ব্যবসায়ী, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ব্যবসায়ী নেতা মাহবুবুর রহমান ও তাসকিন আহমেদসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

Update Time : ১১:০০:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির কেবল ব্যবহারকারী হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলাদেশ যেন এর প্রয়োগ ও উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দিতে পারে, সেই লক্ষ্য অর্জনের ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দিকনির্দেশনা দেন। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় দর্শক হয়ে না থেকে সক্রিয় অংশীদার হওয়াটাই দেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। এআই-নির্ভর না হয়ে বরং এআই-সক্ষম, উদ্ভাবনসমৃদ্ধ এবং পুরোপুরি মানবকল্যাণমুখী একটি জাতি গঠনের মাধ্যমেই আগামীর বিশ্বে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও রূপান্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বহুমুখী ভূমিকার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান যে আগামী দশকে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে এই প্রযুক্তি গভীরভাবে প্রভাবিত করবে। উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, শিল্পের আধুনিকায়ন ঘটানো, রপ্তানি বাজার প্রসারিত করা এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এআইকে অত্যন্ত সুকৌশলে ব্যবহারের তাগিদ দেন তিনি। দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী এবং তাদের যদি যথাযথ প্রযুক্তিবান্ধব ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবে তারা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান সৈনিক হিসেবে আবির্ভূত হবে। আন্তর্জাতিক গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন যে আগামীতে বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য সংযোজন করতে চলেছে এআই, আর বাংলাদেশকেও এই বৈশ্বিক সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে।

ব্যবসায়ী সমাজ এবং করপোরেট খাতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেবল খরচ কমানোর হাতিয়ার হিসেবে দেখলে চলবে না, বরং নতুন পণ্য সৃষ্টি, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্মকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নীত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। তৈরি পোশাকশিল্প যেভাবে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে নতুন পরিচয় এনে দিয়েছে, তেমনি দেশের তরুণরা যদি এআই প্রযুক্তিতে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারে তবে তারা বিশ্বদরবারে দেশকে আরও উচ্চমাত্রায় পরিচিত করতে সক্ষম হবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি এর ঝুঁকি ও বেকারত্ব সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান যে ইতিমধ্যে মূল্যবোধকেন্দ্রিক একটি জাতীয় এআই নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এই নীতিমালায় মূলত নৈতিকতা, মানবাধিকার রক্ষা, ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে কেবল সরকারের প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব নয়, বরং এর জন্য ব্যবসায়ী, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ব্যবসায়ী নেতা মাহবুবুর রহমান ও তাসকিন আহমেদসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।