‘আওয়ামী স্টাইলে দেশ চালাতে চাইলে পরিণতিও তাদের মতোই হবে’
- Update Time : ০৭:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪ Time View
রাজনীতি ডেস্ক: বর্তমান প্রশাসন যদি ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ করে তবে তাদেরও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন। সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত এক স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সংঘটিত নৃশংসতা ও ফ্যাসিবাদের উত্থান স্মরণে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। অনুষ্ঠানে বক্তারা বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ইতিহাসের বিভিন্ন অজানা অধ্যায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
স্মরণসভায় ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে সংসদ সদস্য কামাল হোসেন বলেন, সেই সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও রহস্যে ঘেরা ছিল। তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার মেয়াদ শেষ করার পর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যৌথ সমাবেশের প্রস্তাব দেওয়া হলেও প্রধান শরিক দল তাতে সাড়া দেয়নি। এমনকি সমাবেশটি পল্টন থেকে হঠাৎ স্থানান্তরিত করা হয় এবং পরদিন সকাল থেকে চরম সন্ত্রাসীরা নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। সেই সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রহস্যজনক নীরবতা এবং সহায়তা না করার বিষয়টি নিয়ে আজও জনগণের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ওইদিনের বর্বরতা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ। এই নৃশংসতার মাধ্যমেই মূলত পরবর্তীতে ১/১১ এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ প্রশস্ত করা হয়েছিল। বিগত প্রায় দুই দশক ধরে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তবে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ দীর্ঘ সময় পার হলেও একদিন এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত খুনিদের বিচার নিশ্চিত করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বর্তমান ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে এই জনপ্রতিনিধি বলেন, গণতন্ত্র এবং আওয়ামী মতাদর্শ কখনো একসঙ্গে চলতে পারে না। বর্তমান প্রশাসনে থেকে যদি কেউ একই কায়দায় রাজনৈতিক চরিত্র হননের পুরোনো আওয়ামী বয়ান প্রচার করে এবং তাদের পথেই হাঁটে, তবে দেশের মুক্তিকামী জনসাধারণ তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে। অবিলম্বে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিক, ছাত্র ও যুবসমাজের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান তিনি। ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. মঞ্জুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিভিন্ন শহীদ পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
























