Dhaka ০৬:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রমেক হাসপাতাল নিয়ে কিছু কথা

মাটি মামুন
  • Update Time : ০৭:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / ৬৪ Time View

রংপুর::গত কয়েকদিন ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে নানা সমালোচনা ও আলোচনা দেখছি। অনেকেই নার্স, ডাক্তার, ওয়ার্ড বয় কিংবা ক্লিনারদের দায়ী করছেন। কিন্তু সমালোচনা করার আগে কি আমরা কখনো বাস্তব পরিস্থিতিটা বোঝার চেষ্টা করি? রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বৃহত্তর উত্তরবঙ্গের চিকিৎসা সেবার প্রধান ভরসাস্থল।

 ১৯৬৫ একর জমির ওপর ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খান ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট এই মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এবং ১৯৬৮ সালে ২৫০ শয্যা নিয়ে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় যা আট জেলার লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে। 

পর্যায়ক্রমে এই হাসপাতালটিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য শয্যা সঙ্গা বাড়িয়ে কাগজে-কলমে একহাজার শয্যা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সেখানে ইনডোর আউটডোর মিলে প্রতিদিন এ চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার রোগী। কিন্তু এই হাসপাতালটি পরিচালনা করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জনবল না থাকায় হিমশিম খেতে হচ্ছে বর্তমানে এই হাসপাতালটিতে জনবল রয়েছেন ২৩০ জন যা স্বাভাবিকভাবে এই হাসপাতালটি পরিচালনা করতে ১০০০ থেকে ১২০০ জনবল প্রয়োজন। 

এক একটি ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতা ৬০ জন রোগীর জন্য কিন্তু সেখানে বাস্তবে প্রায় ১৫০-১৬০ জন রোগী ভর্তি থাকে। প্রতিটি রোগীর সঙ্গে গড়ে অন্তত ২ জন করে স্বজন বা অ্যাটেনডেন্ট থাকেন। অর্থাৎ একটি ৬০ শয্যার ওয়ার্ডে প্রায় ৪৫০-৫০০ মানুষের উপস্থিতি থাকে। এখন প্রশ্ন হলো, সরকারের বরাদ্দ ও জনবল কি এই ৫০০ মানুষের জন্য?
যেখানে ৬০ জন রোগীর জন্য একজন ক্লিনার নির্ধারিত, সেখানে প্রায় ৫০০ মানুষের ব্যবহারে ওয়ার্ড পরিষ্কার রাখা কতটা সম্ভব?

যেখানে ৬০ জনের জন্য ৬ জন নার্স নিয়োজিত, সেখানে একই ৬ জন নার্সকে ১৬০ জন রোগীর সেবা দিতে হয়। ডাক্তারদের অবস্থাও ভিন্ন নয়। আমরা যখন হাসপাতালের অপরিচ্ছন্নতা বা সেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে অভিযোগ করি, তখন কি একবারও ভাবি এই মানুষগুলো কী ভয়াবহ চাপের মধ্যে কাজ করছেন? দিনের পর দিন অতিরিক্ত রোগীর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, নিজেদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।আরেকটি কঠিন সত্য হলো, আমরা অনেকেই হাসপাতালের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্বটুকুও পালন করি না। রোগীর স্বজনদের অসচেতন আচরণও হাসপাতালের পরিবেশকে আরও জটিল করে তোলে।

 তাই শুধু ডাক্তার, নার্স বা অন্যান্য কর্মচারীদের দোষারোপ না করে আমাদের মূল সমস্যার দিকে নজর দেওয়া উচিত। প্রশ্ন তোলা উচিত—স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত বাজেট কত? প্রয়োজনীয় জনবল কতটুকু দেওয়া হচ্ছে? একটি আঞ্চলিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে তার বাস্তব রোগীর চাপ অনুযায়ী কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে?যারা প্রতিদিন সীমিত সম্পদ, সীমিত জনবল এবং অসীম চাপের মধ্যে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের সমালোচনা করার আগে অন্তত তাদের বাস্তবতাটা বোঝার চেষ্টা করি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রমেক হাসপাতাল নিয়ে কিছু কথা

Update Time : ০৭:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

রংপুর::গত কয়েকদিন ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে নানা সমালোচনা ও আলোচনা দেখছি। অনেকেই নার্স, ডাক্তার, ওয়ার্ড বয় কিংবা ক্লিনারদের দায়ী করছেন। কিন্তু সমালোচনা করার আগে কি আমরা কখনো বাস্তব পরিস্থিতিটা বোঝার চেষ্টা করি? রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বৃহত্তর উত্তরবঙ্গের চিকিৎসা সেবার প্রধান ভরসাস্থল।

 ১৯৬৫ একর জমির ওপর ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খান ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট এই মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এবং ১৯৬৮ সালে ২৫০ শয্যা নিয়ে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় যা আট জেলার লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে। 

পর্যায়ক্রমে এই হাসপাতালটিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য শয্যা সঙ্গা বাড়িয়ে কাগজে-কলমে একহাজার শয্যা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সেখানে ইনডোর আউটডোর মিলে প্রতিদিন এ চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার রোগী। কিন্তু এই হাসপাতালটি পরিচালনা করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জনবল না থাকায় হিমশিম খেতে হচ্ছে বর্তমানে এই হাসপাতালটিতে জনবল রয়েছেন ২৩০ জন যা স্বাভাবিকভাবে এই হাসপাতালটি পরিচালনা করতে ১০০০ থেকে ১২০০ জনবল প্রয়োজন। 

এক একটি ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতা ৬০ জন রোগীর জন্য কিন্তু সেখানে বাস্তবে প্রায় ১৫০-১৬০ জন রোগী ভর্তি থাকে। প্রতিটি রোগীর সঙ্গে গড়ে অন্তত ২ জন করে স্বজন বা অ্যাটেনডেন্ট থাকেন। অর্থাৎ একটি ৬০ শয্যার ওয়ার্ডে প্রায় ৪৫০-৫০০ মানুষের উপস্থিতি থাকে। এখন প্রশ্ন হলো, সরকারের বরাদ্দ ও জনবল কি এই ৫০০ মানুষের জন্য?
যেখানে ৬০ জন রোগীর জন্য একজন ক্লিনার নির্ধারিত, সেখানে প্রায় ৫০০ মানুষের ব্যবহারে ওয়ার্ড পরিষ্কার রাখা কতটা সম্ভব?

যেখানে ৬০ জনের জন্য ৬ জন নার্স নিয়োজিত, সেখানে একই ৬ জন নার্সকে ১৬০ জন রোগীর সেবা দিতে হয়। ডাক্তারদের অবস্থাও ভিন্ন নয়। আমরা যখন হাসপাতালের অপরিচ্ছন্নতা বা সেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে অভিযোগ করি, তখন কি একবারও ভাবি এই মানুষগুলো কী ভয়াবহ চাপের মধ্যে কাজ করছেন? দিনের পর দিন অতিরিক্ত রোগীর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, নিজেদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।আরেকটি কঠিন সত্য হলো, আমরা অনেকেই হাসপাতালের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্বটুকুও পালন করি না। রোগীর স্বজনদের অসচেতন আচরণও হাসপাতালের পরিবেশকে আরও জটিল করে তোলে।

 তাই শুধু ডাক্তার, নার্স বা অন্যান্য কর্মচারীদের দোষারোপ না করে আমাদের মূল সমস্যার দিকে নজর দেওয়া উচিত। প্রশ্ন তোলা উচিত—স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত বাজেট কত? প্রয়োজনীয় জনবল কতটুকু দেওয়া হচ্ছে? একটি আঞ্চলিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে তার বাস্তব রোগীর চাপ অনুযায়ী কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে?যারা প্রতিদিন সীমিত সম্পদ, সীমিত জনবল এবং অসীম চাপের মধ্যে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের সমালোচনা করার আগে অন্তত তাদের বাস্তবতাটা বোঝার চেষ্টা করি।