Dhaka ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা থাকবে সাড়ে আট লাখ আসন

Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০০:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১ Time View

শিক্ষা ডেস্ক: চলতি শিক্ষাবর্ষের উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া লাখ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি বড় অংশ কৃতকার্য হতে ব্যর্থ হওয়ায় উচ্চশিক্ষার আসনগুলোতে তীব্র শিক্ষার্থী সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষার এই নিম্ন পাসের হার সরাসরি দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সমমানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমান শিক্ষাবর্ষে মোট আসন সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখের কাছাকাছি। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও এর অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে রয়েছে বিশাল সংখ্যক আসন এবং বাকি আসনগুলো রয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। অথচ সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা এই মোট আসনের তুলনায় অনেক কম। ফলে সব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি আসন, যেখানে অনার্স ও ডিগ্রি কোর্সে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানেও রয়েছে নির্দিষ্টসংখ্যক আসন। প্রথাগতভাবে শিক্ষার্থীরা প্রথমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির চেষ্টা করেন এবং সেখানে আসন না পেলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তবে সামগ্রিক পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এবার এই প্রথাগত ধারায় বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটতে পারে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বড় ধাক্কার মুখে পড়বে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, এই সংকট সব প্রতিষ্ঠানের ওপর সমানভাবে না পড়লেও মাঝারি ও নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মারাত্মক শিক্ষার্থী সংকটে পড়বে। দেশের প্রথম সারির নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে কিছুটা সামলে নিতে পারলেও অপেক্ষাকৃত ছোট ও নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর্থিক ও একাডেমিক উভয় দিক থেকেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা থাকবে সাড়ে আট লাখ আসন

Update Time : ০৪:০০:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

শিক্ষা ডেস্ক: চলতি শিক্ষাবর্ষের উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া লাখ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি বড় অংশ কৃতকার্য হতে ব্যর্থ হওয়ায় উচ্চশিক্ষার আসনগুলোতে তীব্র শিক্ষার্থী সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষার এই নিম্ন পাসের হার সরাসরি দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সমমানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমান শিক্ষাবর্ষে মোট আসন সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখের কাছাকাছি। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও এর অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে রয়েছে বিশাল সংখ্যক আসন এবং বাকি আসনগুলো রয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। অথচ সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা এই মোট আসনের তুলনায় অনেক কম। ফলে সব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি আসন, যেখানে অনার্স ও ডিগ্রি কোর্সে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানেও রয়েছে নির্দিষ্টসংখ্যক আসন। প্রথাগতভাবে শিক্ষার্থীরা প্রথমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির চেষ্টা করেন এবং সেখানে আসন না পেলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তবে সামগ্রিক পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এবার এই প্রথাগত ধারায় বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটতে পারে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বড় ধাক্কার মুখে পড়বে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, এই সংকট সব প্রতিষ্ঠানের ওপর সমানভাবে না পড়লেও মাঝারি ও নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মারাত্মক শিক্ষার্থী সংকটে পড়বে। দেশের প্রথম সারির নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে কিছুটা সামলে নিতে পারলেও অপেক্ষাকৃত ছোট ও নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর্থিক ও একাডেমিক উভয় দিক থেকেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।