Dhaka ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮ গোলের ম্যাচে শেষ মুহূর্তের নাটকে ড্র করেও ১৮ নম্বরে ইউনাইটেড

Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৫ Time View

খেলা ডেস্ক: ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ওল্ড ট্রাফোর্ডে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে এক রোমাঞ্চকর ও গোলেসমৃদ্ধ ম্যাচে শেষ মুহূর্তে হার এড়িয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। নির্ধারিত সময়ে চার গোল হজম করে পরাজয়ের মুখে পড়া দলটি অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় দুই গোল পরিশোধ করে ম্যাচটি ড্র করে। তবে এই পয়েন্ট ভাগাভাগিও রেড ডেভিলদের কোচ মাইকেল ক্যারিকের মুখের হাসি ফেরাতে পারেনি, কারণ দলটি পয়েন্ট তালিকার অবনমন অঞ্চলে আঠারো নম্বরে অবস্থান করছে। ম্যাচটিতে ড্র করার মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি মিললেও সামগ্রিক পারফরম্যান্সের কারণে দলটির ভক্ত ও ম্যানেজমেন্টের উদ্বেগ কাটছে না।

ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। লড়াইয়ের প্রথম চার মিনিটের মধ্যেই দুই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে তারা। প্রথম মিনিটেই অ্যালিসনের নেওয়া শট গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে জালে জড়ায় এবং তিন মিনিট পর নিকোলাস জ্যাকসন ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ষোলো মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজ পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমালে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ইউনাইটেড। বিরতির ঠিক আগে ইউরি টিলেমানসের জোরালো শটে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা, যা প্রথমার্ধের খেলাটিকে রোমাঞ্চকর করে তোলে।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফের পিছিয়ে পড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জন ম্যাকগিন গোল করে অ্যাস্টন ভিলাকে এগিয়ে নেন এবং এর কিছুক্ষণ পর লিওন গোরেৎসকার গোলে ব্যবধান চার-দুই করে ফেলে সফরকারীরা। চার গোলে পিছিয়ে পড়ে পরাজয় যখন নিশ্চিত প্রায়, তখনই যোগ করা সময়ে জাদুকরি প্রত্যাবর্তনের দেখা মেলে। ইয়োশুয়া জির্কজি একটি গোল শোধ করার পর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে প্যাট্রিক ডোরগু হেডের সাহায্যে গোল করে দলের হার বাঁচান এবং নাটকীয় এক ড্র উপহার দেন।

চলতি মৌসুমে ১৫ ম্যাচে মাত্র তিনটিতে জয় পাওয়া ইউনাইটেডের জন্য এই ড্র কতটা স্বস্তিদায়ক, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের শেষ আট ম্যাচে জয়হীন থাকার ফলে কোচ মাইকেল ক্যারিকের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। ক্লাব পরিচালনা পর্ষদ তাঁর ওপর ভরসা রাখলেও পয়েন্ট টেবিলের তলানির দিকে দলের অবস্থান কোচের ওপর চাপ দিন দিন বাড়িয়ে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিরতির আগের এই ম্যাচটি তাঁর চাকরি বাঁচানোর লড়াইয়ে সাময়িক স্বস্তি আনলেও দীর্ঘমেয়াদি সফলতা অর্জনে দলকে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

৮ গোলের ম্যাচে শেষ মুহূর্তের নাটকে ড্র করেও ১৮ নম্বরে ইউনাইটেড

Update Time : ০২:৪৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ নভেম্বর ২০২৬

খেলা ডেস্ক: ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ওল্ড ট্রাফোর্ডে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে এক রোমাঞ্চকর ও গোলেসমৃদ্ধ ম্যাচে শেষ মুহূর্তে হার এড়িয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। নির্ধারিত সময়ে চার গোল হজম করে পরাজয়ের মুখে পড়া দলটি অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় দুই গোল পরিশোধ করে ম্যাচটি ড্র করে। তবে এই পয়েন্ট ভাগাভাগিও রেড ডেভিলদের কোচ মাইকেল ক্যারিকের মুখের হাসি ফেরাতে পারেনি, কারণ দলটি পয়েন্ট তালিকার অবনমন অঞ্চলে আঠারো নম্বরে অবস্থান করছে। ম্যাচটিতে ড্র করার মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি মিললেও সামগ্রিক পারফরম্যান্সের কারণে দলটির ভক্ত ও ম্যানেজমেন্টের উদ্বেগ কাটছে না।

ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। লড়াইয়ের প্রথম চার মিনিটের মধ্যেই দুই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে তারা। প্রথম মিনিটেই অ্যালিসনের নেওয়া শট গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে জালে জড়ায় এবং তিন মিনিট পর নিকোলাস জ্যাকসন ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ষোলো মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজ পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমালে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ইউনাইটেড। বিরতির ঠিক আগে ইউরি টিলেমানসের জোরালো শটে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা, যা প্রথমার্ধের খেলাটিকে রোমাঞ্চকর করে তোলে।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফের পিছিয়ে পড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জন ম্যাকগিন গোল করে অ্যাস্টন ভিলাকে এগিয়ে নেন এবং এর কিছুক্ষণ পর লিওন গোরেৎসকার গোলে ব্যবধান চার-দুই করে ফেলে সফরকারীরা। চার গোলে পিছিয়ে পড়ে পরাজয় যখন নিশ্চিত প্রায়, তখনই যোগ করা সময়ে জাদুকরি প্রত্যাবর্তনের দেখা মেলে। ইয়োশুয়া জির্কজি একটি গোল শোধ করার পর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে প্যাট্রিক ডোরগু হেডের সাহায্যে গোল করে দলের হার বাঁচান এবং নাটকীয় এক ড্র উপহার দেন।

চলতি মৌসুমে ১৫ ম্যাচে মাত্র তিনটিতে জয় পাওয়া ইউনাইটেডের জন্য এই ড্র কতটা স্বস্তিদায়ক, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের শেষ আট ম্যাচে জয়হীন থাকার ফলে কোচ মাইকেল ক্যারিকের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। ক্লাব পরিচালনা পর্ষদ তাঁর ওপর ভরসা রাখলেও পয়েন্ট টেবিলের তলানির দিকে দলের অবস্থান কোচের ওপর চাপ দিন দিন বাড়িয়ে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিরতির আগের এই ম্যাচটি তাঁর চাকরি বাঁচানোর লড়াইয়ে সাময়িক স্বস্তি আনলেও দীর্ঘমেয়াদি সফলতা অর্জনে দলকে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।