Dhaka ০৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব পরিবারকেন্দ্রিক, সিদ্ধান্ত ব্যক্তিনির্ভর: টিআইবি

Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৫ Time View

জাতীয় ডেস্ক: দেশের রাজনৈতিক দলগুলোতে গণতন্ত্রের চর্চা চরমভাবে অনুপস্থিত রয়েছে এবং বড় একটি অংশের নেতৃত্ব পরিবারকেন্দ্রিক ও ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। দেশের রাজনৈতিক সংস্করণে কাঠামোগত দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব কীভাবে জেঁকে বসেছে, তা এই বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে। দলগুলোর নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় সাধারণ নেতাকর্মীদের মতামতের চেয়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির একক আধিপত্য বেশি প্রভাব বিস্তার করছে।

গবেষণাটিতে দেশের বিভিন্ন মতাদর্শের মোট বত্রিশটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালি ও গঠনতন্ত্র গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে টিআইবি জানিয়েছে, এসব দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ত্যাগী নেতাকর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা বা যোগ্যতা সবসময় মূল্যায়িত হয় না। এর পরিবর্তে পারিবারিক উত্তরাধিকার, আর্থিক সচ্ছলতা কিংবা শোবিজ অঙ্গনের তারকাখ্যাতি নেতৃত্বের আসনে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে। এর ফলে রাজনীতিতে সাধারণ ও তৃণমূল কর্মীদের প্রকৃত মূল্যায়ন ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে যে, শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে দল পরিচালিত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে একধরনের অগণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্ম হচ্ছে। ক্ষমতার এই কেন্দ্রীভূত রূপের কারণে দলের অভ্যন্তরে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ছে এবং জবাবদিহিতার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে একই পরিবার বা ব্যক্তির হাতে দলের নিয়ন্ত্রণ থাকায় তরুণ ও উদীয়মান নেতৃত্ব যথাযথ বিকশিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

রাজনীতিতে এই ধরনের পরিবারতন্ত্র ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্ভরতা দূর করতে দলগুলোর ভেতরে অভ্যন্তরীণ সংস্কার আনয়নের জোরালো তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গঠনতন্ত্রের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং সব স্তরে নিয়মিত ও স্বচ্ছ কাউন্সিল আয়োজনের মাধ্যমে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরাই যদি অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চায় ব্যর্থ হয়, তবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়বে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

১০ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব পরিবারকেন্দ্রিক, সিদ্ধান্ত ব্যক্তিনির্ভর: টিআইবি

Update Time : ০৪:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: দেশের রাজনৈতিক দলগুলোতে গণতন্ত্রের চর্চা চরমভাবে অনুপস্থিত রয়েছে এবং বড় একটি অংশের নেতৃত্ব পরিবারকেন্দ্রিক ও ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। দেশের রাজনৈতিক সংস্করণে কাঠামোগত দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব কীভাবে জেঁকে বসেছে, তা এই বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে। দলগুলোর নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় সাধারণ নেতাকর্মীদের মতামতের চেয়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির একক আধিপত্য বেশি প্রভাব বিস্তার করছে।

গবেষণাটিতে দেশের বিভিন্ন মতাদর্শের মোট বত্রিশটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালি ও গঠনতন্ত্র গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে টিআইবি জানিয়েছে, এসব দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ত্যাগী নেতাকর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা বা যোগ্যতা সবসময় মূল্যায়িত হয় না। এর পরিবর্তে পারিবারিক উত্তরাধিকার, আর্থিক সচ্ছলতা কিংবা শোবিজ অঙ্গনের তারকাখ্যাতি নেতৃত্বের আসনে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে। এর ফলে রাজনীতিতে সাধারণ ও তৃণমূল কর্মীদের প্রকৃত মূল্যায়ন ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে যে, শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে দল পরিচালিত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে একধরনের অগণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্ম হচ্ছে। ক্ষমতার এই কেন্দ্রীভূত রূপের কারণে দলের অভ্যন্তরে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ছে এবং জবাবদিহিতার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে একই পরিবার বা ব্যক্তির হাতে দলের নিয়ন্ত্রণ থাকায় তরুণ ও উদীয়মান নেতৃত্ব যথাযথ বিকশিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

রাজনীতিতে এই ধরনের পরিবারতন্ত্র ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্ভরতা দূর করতে দলগুলোর ভেতরে অভ্যন্তরীণ সংস্কার আনয়নের জোরালো তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গঠনতন্ত্রের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং সব স্তরে নিয়মিত ও স্বচ্ছ কাউন্সিল আয়োজনের মাধ্যমে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরাই যদি অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চায় ব্যর্থ হয়, তবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়বে।