Dhaka ০৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় শখের বসে আঙুর চাষ,বাণিজ্যিক ভাবে সফল হেলাল উদ্দিন

মোঃ খলিলুর রহমান
  • Update Time : ০৯:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / ২০ Time View

সাতক্ষীরা ::শখের বশে বাড়ির আঙিনায় দুটি আঙুরগাছ লাগিয়ে শুরু করেছিলেন নতুন এক যাত্রা। সেই শখই আজ পরিণত হয়েছে সফল ব্যবসায়। সাতক্ষীরার এই কৃষি উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন একসময় পেশায় ছিলেন ট্রাকচালক ।বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে শুধু লাভবানই হননি, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় মিষ্টি ও উন্নতমানের আঙুর উৎপাদন সম্ভব সেই ধারণাকেও বাস্তবে প্রমাণ করেছেন।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা বাইপাস সড়ক এলাকার বাসিন্দা হেলাল উদ্দিনের আঙুর বাগানে ঢুকলেই চোখে পড়ে থোকা থোকা আঙুরের সমারোহ। সবুজ পাতার ফাঁকে লাল, কালো, হলুদ ও সবুজ রঙের আঙুরে সাজানো বাগান যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। শুধু সৌন্দর্যেই নয়, স্বাদেও এই আঙুর বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু।

তিন বছর আগে ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বাড়ির আঙিনায় দুটি আঙুরের চারা রোপণ করেন হেলাল উদ্দিন। প্রথম দিকেই আশাতীত ফলন পাওয়ায় আঙুর চাষের প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়ে। পরে সাতক্ষীরা শহরের বাইপাস এলাকায় ১৫ কাঠা জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন বাণিজ্যিক আঙুর চাষ।
বর্তমানে তাঁর বাগানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ইউক্রেন ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০টি জাতের আঙুর রয়েছে। মাত্র ৯ মাস বয়সী এই বাগানে রয়েছে ১২৬টি আঙুরগাছ।

হেলাল উদ্দিনের দাবি, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উৎপাদিত আঙুর টক হয় এমন প্রচলিত ধারণা তাঁর বাগানের ফলন ভুল প্রমাণ করেছে।এই সফলতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাঁর স্ত্রী আলেয়া বেগম। তিনি জানান, শুরুতে আঙুর চাষের উদ্যোগ নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু প্রথম ফলন পাওয়ার পর তাঁদের ধারণা বদলে যায়। এখন তিনি স্বামীর সঙ্গে নিয়মিত বাগান পরিচর্যায় অংশ নেন।

হেলাল উদ্দিন জানান, ১৫ কাঠা জমিতে আঙুর বাগান গড়ে তুলতে তাঁর প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে প্রথম চালানের আঙুর বিক্রির মাধ্যমেই সেই খরচ উঠে এসেছে। তাঁর মতে, আঙুর চাষে একবার অবকাঠামোগত বিনিয়োগের পর তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘ সময় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, সঠিক জাত নির্বাচন, পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের মাটিতেও উন্নতমানের মিষ্টি আঙুর উৎপাদন করা যায়। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে তিনি ইতিমধ্যে আরও এক বিঘা জমিতে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
হেলাল উদ্দিনের বাগান দেখতে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন। অনেকেই আঙুর চাষে আগ্রহী হয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন এবং চারা সংগ্রহ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আঙুর একটি সম্ভাবনাময় নতুন ফসল হিসেবে জেলায় চাষ শুরু হয়েছে। সাতক্ষীরার জলবায়ু ও মাটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। পতিত জমি ব্যবহার করে আঙুর চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, হেলাল উদ্দিনের মতো উদ্যোক্তাদের সফলতা একদিকে যেমন স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে তরুণ ও বেকারদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের পথও তৈরি করছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সাতক্ষীরায় শখের বসে আঙুর চাষ,বাণিজ্যিক ভাবে সফল হেলাল উদ্দিন

Update Time : ০৯:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

সাতক্ষীরা ::শখের বশে বাড়ির আঙিনায় দুটি আঙুরগাছ লাগিয়ে শুরু করেছিলেন নতুন এক যাত্রা। সেই শখই আজ পরিণত হয়েছে সফল ব্যবসায়। সাতক্ষীরার এই কৃষি উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন একসময় পেশায় ছিলেন ট্রাকচালক ।বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে শুধু লাভবানই হননি, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় মিষ্টি ও উন্নতমানের আঙুর উৎপাদন সম্ভব সেই ধারণাকেও বাস্তবে প্রমাণ করেছেন।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা বাইপাস সড়ক এলাকার বাসিন্দা হেলাল উদ্দিনের আঙুর বাগানে ঢুকলেই চোখে পড়ে থোকা থোকা আঙুরের সমারোহ। সবুজ পাতার ফাঁকে লাল, কালো, হলুদ ও সবুজ রঙের আঙুরে সাজানো বাগান যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। শুধু সৌন্দর্যেই নয়, স্বাদেও এই আঙুর বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু।

তিন বছর আগে ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বাড়ির আঙিনায় দুটি আঙুরের চারা রোপণ করেন হেলাল উদ্দিন। প্রথম দিকেই আশাতীত ফলন পাওয়ায় আঙুর চাষের প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়ে। পরে সাতক্ষীরা শহরের বাইপাস এলাকায় ১৫ কাঠা জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন বাণিজ্যিক আঙুর চাষ।
বর্তমানে তাঁর বাগানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ইউক্রেন ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০টি জাতের আঙুর রয়েছে। মাত্র ৯ মাস বয়সী এই বাগানে রয়েছে ১২৬টি আঙুরগাছ।

হেলাল উদ্দিনের দাবি, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উৎপাদিত আঙুর টক হয় এমন প্রচলিত ধারণা তাঁর বাগানের ফলন ভুল প্রমাণ করেছে।এই সফলতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাঁর স্ত্রী আলেয়া বেগম। তিনি জানান, শুরুতে আঙুর চাষের উদ্যোগ নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু প্রথম ফলন পাওয়ার পর তাঁদের ধারণা বদলে যায়। এখন তিনি স্বামীর সঙ্গে নিয়মিত বাগান পরিচর্যায় অংশ নেন।

হেলাল উদ্দিন জানান, ১৫ কাঠা জমিতে আঙুর বাগান গড়ে তুলতে তাঁর প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে প্রথম চালানের আঙুর বিক্রির মাধ্যমেই সেই খরচ উঠে এসেছে। তাঁর মতে, আঙুর চাষে একবার অবকাঠামোগত বিনিয়োগের পর তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘ সময় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, সঠিক জাত নির্বাচন, পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের মাটিতেও উন্নতমানের মিষ্টি আঙুর উৎপাদন করা যায়। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে তিনি ইতিমধ্যে আরও এক বিঘা জমিতে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
হেলাল উদ্দিনের বাগান দেখতে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন। অনেকেই আঙুর চাষে আগ্রহী হয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন এবং চারা সংগ্রহ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আঙুর একটি সম্ভাবনাময় নতুন ফসল হিসেবে জেলায় চাষ শুরু হয়েছে। সাতক্ষীরার জলবায়ু ও মাটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। পতিত জমি ব্যবহার করে আঙুর চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, হেলাল উদ্দিনের মতো উদ্যোক্তাদের সফলতা একদিকে যেমন স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে তরুণ ও বেকারদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের পথও তৈরি করছে।