ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির আপাতত পরিকল্পনা নেই, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী
- Update Time : ০৭:০৩:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ৭ Time View
অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের বাজারে এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো চিন্তাভাবনা বা পরিকল্পনা সরকারের নেই। সম্প্রতি সচিবালয়ে ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এই কথা স্পষ্ট করেন। তেলের দাম সমন্বয় করা নিয়ে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব রয়েছে কি না এবং আগামী রমজানের আগে তেলের দাম বাড়বে কি না—এমন নানা প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান।
বৈঠকে বাণিজ্য সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের ভেতরে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর আবেদন জানায়। বর্তমান বাজারদরে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের খুচরা মূল্য ২০৪ টাকা থাকলেও কোম্পানিগুলো তা বাড়িয়ে ২১৮ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
পাশাপাশি, পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতলের দাম ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় হারের প্রভাবে আমদানিকারকরা দাম বাড়ানোর কথা বললেও সরকার সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে এখনই এই মূল্যবৃদ্ধির পক্ষে নয়। বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে পর্যাপ্ত পণ্য বর্তমানে আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ভোজ্যতেল ছাড়াও ছোলা, ডাল ও চিনির মতো আমদানিনির্ভর পণ্যগুলোর সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনা করে সরকার আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে এবং পাইপলাইনের মজুদ বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ঋণপত্র বা এলসি খোলা সংক্রান্ত কোনো জটিলতা তৈরি হলে তা দ্রুত নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
























