ভুয়া লেখক, প্রকাশক, এআইয়ে লেখা বই—গ্রন্থাগার ঘিরে তোলপাড় তামিলনাড়ুতে
- Update Time : ০৬:১৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / ৪ Time View
জাতীয় ডেস্ক: ভারতের তামিলনাড়ুতে সমাজসংস্কারক ও যুক্তিবাদী নেতা ইভি রামাসামি পেরিয়ারের নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত একটি নবনির্মিত গ্রন্থাগারে ভুয়া লেখক, অস্তিত্বহীন প্রকাশনা সংস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি নিম্নমানের বই সংগ্রহের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি অনলাইন সাময়িকীতে প্রকাশিত অনুসন্ধানী নিবন্ধে বিশিষ্ট তামিল লেখক পেরুমল মুরুগান এই অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। তাঁর এই দাবির পর থেকেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে এবং ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ চলছে।
অভিযোগে প্রকাশ, অখ্যাত ও অস্তিত্বহীন বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার কাছ থেকে অত্যন্ত চড়া মূল্যে হাজার হাজার বই সংগ্রহ করা হয়েছে, যেগুলোর মান অত্যন্ত নিম্নমানের। পেরুমল মুরুগান জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘ চার দশক ধরে সাহিত্যজগতের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আগল ভিলাক্কু নামের যে প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রায় এক হাজার আটশো বই কেনা হয়েছে, সেটির নাম তিনি আগে কখনো শোনেননি। এই বইগুলোতে অসংখ্য তথ্যগত ভুল, ব্যাকরণগত ত্রুটি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহারের সন্দেহজনক উপস্থিতি রয়েছে, যা প্রাচীন ও সমৃদ্ধ তামিল সাহিত্য সংস্কৃতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
তদন্তের দাবি জোরালো হওয়ার পর রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী রাজ মোহন জানিয়েছেন যে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি পরিষ্কার ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে এই অনিয়মের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি অভিনেতা ও সংসদ সদস্য কমল হাসানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে তামিল ভাষার ইতিহাসে এটি একটি অত্যন্ত লজ্জাজনক অধ্যায় এবং অবিলম্বে এসব ক্ষতিকর বই গ্রন্থাগার থেকে অপসারণ করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, প্রায় তিনশো কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত সাততলা বিশিষ্ট পেরিয়ার আরিভুলাগাম গ্রন্থাগার ও বিজ্ঞানকেন্দ্রটি গত অক্টোবর মাসে উদ্বোধন করা হয়। এই বই সংগ্রহ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের দল এবং বিরোধী দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম পরস্পরকে দায়ী করছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রন্থাগারের সংগ্রহে থাকা সমস্ত বইয়ের একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা করার দাবি উঠেছে, যাতে সাহিত্যের পবিত্রতা রক্ষা পায় এবং প্রকৃত দোষী ব্যক্তিরা বিচারের মুখোমুখি হয়।























