Dhaka ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করল সরকার, ফি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা

Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩ Time View

জাতীয় ডেস্ক: সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল সুশৃঙ্খল করতে নতুন একটি বিধিমালা জারি করেছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যার মাধ্যমে আগের সব নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে। নতুন এই নিয়মের আওতায় প্রতিটি ই-রিকশার নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং যানের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই যাত্রী বহনক্ষমতাসম্পন্ন যানের জন্য আট হাজার টাকা এবং চার যাত্রী বহনক্ষমতার যানের জন্য দশ হাজার টাকা ফি দিতে হবে। এই নিবন্ধনের মেয়াদ থাকবে পাঁচ বছর এবং প্রতিবছর নির্দিষ্ট ফি দিয়ে তা নবায়ন করতে হবে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত ও নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক এবং ন্যূনতম আঠারো বছর বয়সী হতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি, ছবি, ফিটনেস সনদ এবং ফি জমার রসিদ জমা দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন প্রদান করবে। একজন নাগরিক একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নিতে পারবেন। তবে এক সিটি করপোরেশনের নিবন্ধিত যান অন্য সিটি করপোরেশনে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না। বুয়েটের প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুযায়ী ফিটনেস যাচাইয়ের পর ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর সাপেক্ষে নিবন্ধন নম্বর প্লেট দেওয়া হবে।

যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট রুট, গতিসীমা এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় পঁচিশ কিলোমিটার এবং সংবেদনশীল এলাকায় তা পনেরো কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ফুটপাতে এসব যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে এলাকাভিত্তিক রুট এবং নির্দিষ্ট রং নির্ধারণ করবে। এছাড়া প্রতিটি যানে স্পিডোমিটার স্থাপন এবং চালকের জন্য নির্দিষ্ট লেন মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত গ্যারেজ বা চার্জিং পয়েন্ট ছাড়া যত্রতত্র ব্যাটারি চার্জ দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিতেও নতুন বিধমালায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পুরোনো ও অকার্যকর ব্যাটারি যত্রতত্র ফেলা বা পোড়ানো যাবে না এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া তা প্রক্রিয়াজাত করা নিষিদ্ধ। নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় ডিলারের মাধ্যমে পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কারখানায় পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া নিয়ম লঙ্ঘন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল কিংবা অনুমতি ছাড়া মোটর পরিবর্তন করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে এসব যানকে বিমার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

‎ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করল সরকার, ফি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা

Update Time : ১০:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল সুশৃঙ্খল করতে নতুন একটি বিধিমালা জারি করেছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যার মাধ্যমে আগের সব নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে। নতুন এই নিয়মের আওতায় প্রতিটি ই-রিকশার নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং যানের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই যাত্রী বহনক্ষমতাসম্পন্ন যানের জন্য আট হাজার টাকা এবং চার যাত্রী বহনক্ষমতার যানের জন্য দশ হাজার টাকা ফি দিতে হবে। এই নিবন্ধনের মেয়াদ থাকবে পাঁচ বছর এবং প্রতিবছর নির্দিষ্ট ফি দিয়ে তা নবায়ন করতে হবে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত ও নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক এবং ন্যূনতম আঠারো বছর বয়সী হতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি, ছবি, ফিটনেস সনদ এবং ফি জমার রসিদ জমা দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন প্রদান করবে। একজন নাগরিক একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নিতে পারবেন। তবে এক সিটি করপোরেশনের নিবন্ধিত যান অন্য সিটি করপোরেশনে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না। বুয়েটের প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুযায়ী ফিটনেস যাচাইয়ের পর ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর সাপেক্ষে নিবন্ধন নম্বর প্লেট দেওয়া হবে।

যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট রুট, গতিসীমা এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় পঁচিশ কিলোমিটার এবং সংবেদনশীল এলাকায় তা পনেরো কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ফুটপাতে এসব যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে এলাকাভিত্তিক রুট এবং নির্দিষ্ট রং নির্ধারণ করবে। এছাড়া প্রতিটি যানে স্পিডোমিটার স্থাপন এবং চালকের জন্য নির্দিষ্ট লেন মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত গ্যারেজ বা চার্জিং পয়েন্ট ছাড়া যত্রতত্র ব্যাটারি চার্জ দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিতেও নতুন বিধমালায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পুরোনো ও অকার্যকর ব্যাটারি যত্রতত্র ফেলা বা পোড়ানো যাবে না এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া তা প্রক্রিয়াজাত করা নিষিদ্ধ। নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় ডিলারের মাধ্যমে পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কারখানায় পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া নিয়ম লঙ্ঘন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল কিংবা অনুমতি ছাড়া মোটর পরিবর্তন করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে এসব যানকে বিমার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।