Dhaka ১০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোঝা যায় তলেতলে একটা খাতির ছিল: বিএনপি-কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত গোলাম পরওয়ারের

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৬ Time View

রাজনীতি ডেস্ক: ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে সংঘটিত লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক সমাবেশে বিগত দিনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। সম্প্রতি রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ফটকে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। ফ্যাসিস্ট কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই সময়ের বর্বরতা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। তৎকালীন সময়ে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর সঠিক ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন হওয়া উচিত বলে তিনি জোরালো দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা উল্লেখ করেন যে, ঘটনার আগের দিন রাতে হঠাৎ করেই শ্রমিক দলের পূর্বনির্ধারিত সভা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যা জনমনে নানা ধরনের সন্দেহ তৈরি করেছে। সেই দিনটিতে তৎকালীন চারদলীয় জোটের সভা কেন এক স্থানে হতে পারেনি এবং কেনই বা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি, সেই রহস্য আজও উন্মোচিত হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধিতায় থাকা আওয়ামী লীগের মধ্যে পর্দার আড়ালে এক ধরনের বোঝাপড়া বা গোপন যোগাযোগ ছিল কি না, তা নিয়ে আজও জনগণের মনে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও জানান যে, পল্টনের সেদিনের ঘটনার পর তাদের দলের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। কেবল মামলা তুলেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং বিচারিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে মামলার সমস্ত নথিপত্র পর্যন্ত গায়েব করে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তৎকালীন সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেদিন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি অভিযোগ করে তিনি বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা এবং আরামদায়ক উপায়ে সভা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তৎকালীন সম্পর্কের গভীরতাই নির্দেশ করে।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, সরকার যদি প্রকৃত অর্থেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চায়, তবে পল্টন হত্যাকাণ্ডের পুরোনো সব নথিপত্র খুঁজে বের করে মামলাটি অবিলম্বে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলা বিচার প্রক্রিয়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু ও বাপ্পাদিত্য বসুদের মতো ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরীর শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল পল্টন থেকে শুরু হয়ে মৎস্য ভবন মোড়ে গিয়ে সমাপ্ত হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বোঝা যায় তলেতলে একটা খাতির ছিল: বিএনপি-কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত গোলাম পরওয়ারের

Update Time : ০৮:১৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে সংঘটিত লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক সমাবেশে বিগত দিনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। সম্প্রতি রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ফটকে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। ফ্যাসিস্ট কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই সময়ের বর্বরতা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। তৎকালীন সময়ে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর সঠিক ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন হওয়া উচিত বলে তিনি জোরালো দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা উল্লেখ করেন যে, ঘটনার আগের দিন রাতে হঠাৎ করেই শ্রমিক দলের পূর্বনির্ধারিত সভা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যা জনমনে নানা ধরনের সন্দেহ তৈরি করেছে। সেই দিনটিতে তৎকালীন চারদলীয় জোটের সভা কেন এক স্থানে হতে পারেনি এবং কেনই বা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি, সেই রহস্য আজও উন্মোচিত হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধিতায় থাকা আওয়ামী লীগের মধ্যে পর্দার আড়ালে এক ধরনের বোঝাপড়া বা গোপন যোগাযোগ ছিল কি না, তা নিয়ে আজও জনগণের মনে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও জানান যে, পল্টনের সেদিনের ঘটনার পর তাদের দলের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। কেবল মামলা তুলেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং বিচারিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে মামলার সমস্ত নথিপত্র পর্যন্ত গায়েব করে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তৎকালীন সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেদিন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি অভিযোগ করে তিনি বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা এবং আরামদায়ক উপায়ে সভা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তৎকালীন সম্পর্কের গভীরতাই নির্দেশ করে।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, সরকার যদি প্রকৃত অর্থেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চায়, তবে পল্টন হত্যাকাণ্ডের পুরোনো সব নথিপত্র খুঁজে বের করে মামলাটি অবিলম্বে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলা বিচার প্রক্রিয়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু ও বাপ্পাদিত্য বসুদের মতো ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরীর শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল পল্টন থেকে শুরু হয়ে মৎস্য ভবন মোড়ে গিয়ে সমাপ্ত হয়।