Dhaka ০৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৯ Time View

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে জাপানের জোরালো সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি জাপান সফরকালে দেশটির শীর্ষ বাণিজ্য সংস্থার প্রধানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই আহ্বান জানান তিনি। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে উভয় দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এই বৈঠকের বিস্তারিত গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন।

জাপানের স্থানীয় সময় অনুযায়ী বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন বা জেটরো কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি খাতের প্রসার এবং মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগের এক উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং জাপানি উদ্যোক্তারা এখানে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে জাপানি বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি উৎপাদনশিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো খাতগুলোকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে দুই পক্ষই মত প্রকাশ করে। এ ছাড়া বাংলাদেশের যুবসমাজকে দক্ষ করে তুলতে এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে জাপানি সহযোগিতার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। এই ধরনের উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন জাপানি শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন যে, দেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান ও সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতির কারণে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর আমন্ত্রণে এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী জেটরোর প্রধানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বাসসের পরিবেশিত খবরে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ১২:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে জাপানের জোরালো সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি জাপান সফরকালে দেশটির শীর্ষ বাণিজ্য সংস্থার প্রধানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই আহ্বান জানান তিনি। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে উভয় দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এই বৈঠকের বিস্তারিত গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন।

জাপানের স্থানীয় সময় অনুযায়ী বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন বা জেটরো কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি খাতের প্রসার এবং মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগের এক উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং জাপানি উদ্যোক্তারা এখানে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে জাপানি বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি উৎপাদনশিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো খাতগুলোকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে দুই পক্ষই মত প্রকাশ করে। এ ছাড়া বাংলাদেশের যুবসমাজকে দক্ষ করে তুলতে এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে জাপানি সহযোগিতার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। এই ধরনের উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন জাপানি শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন যে, দেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান ও সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতির কারণে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর আমন্ত্রণে এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী জেটরোর প্রধানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বাসসের পরিবেশিত খবরে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।