ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের সঙ্গে ডিজিইপের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- Update Time : ১২:১৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / ৪ Time View
অর্থনীতি ডেস্ক: নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্বেগ এবং ভারত থেকে সার্ভারের তথ্যে প্রবেশাধিকার থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান ডিজিইপেকে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ বা এনপিএসবি থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর ফলে দেশের মূল লেনদেন ব্যবস্থা থেকে সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করা এই প্রতিষ্ঠানটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি বিশেষ পরিদর্শন দল আকস্মিকভাবে ডিজিইপের কার্যালয়ে গিয়ে সার্বিক কার্যক্রমের ওপর নিরীক্ষা চালায়। নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ করার পর প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। ওই দিনই আলোচনা শেষে এনপিএসবি নেটওয়ার্ক থেকে প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এদিকে পেমেন্ট সুইচের সঙ্গে সংযোগ ছিন্ন করার বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি। ডিজিইপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানান, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই আকস্মিক বিষয়টি তাঁরা সংবাদমাধ্যম থেকেই জানতে পেরেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে অডিট চলাকালে কিংবা পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত বা মৌখিকভাবে তাদের কোনো কিছু জানানো হয়নি। তবে এনপিএসবিভিত্তিক লেনদেন বন্ধ থাকলেও তাদের অন্যান্য সাধারণ সেবাগুলো বর্তমানে চালু রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, এই পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে নানা ধরনের গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব কারণে দেশের সামগ্রিক জাতীয় লেনদেন ব্যবস্থায় তাদের যুক্ত রাখা কোনোভাবেই নিরাপদ মনে করছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে একটি নিবিড় তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার পরই তাদের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ডিজিইপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত ভারতে অবস্থানরত তাদের সফটওয়্যার উন্নয়নকারী দল বা ডেভেলপমেন্ট টিম নিয়ে আপত্তি তুলেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদ বলেন, ভেন্ডর হিসেবে একটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান তাদের সিস্টেমে কাজ করছে এবং ডেভেলপমেন্টের কাজের স্বার্থেই তাদের ন্যূনতম প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছিল, যা একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আপত্তির পর তারা গত সোমবার রাতেই ভারতীয় ডেভেলপমেন্ট টিমের কাছ থেকে সিস্টেমের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে হ্যান্ডওভার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।


























