জনগণ শুধু ভোটার নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকর অংশীদার: জেএসডি
- Update Time : ০৬:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪ Time View
রাজনীতি ডেস্ক: শুধুমাত্র শাসক কিংবা সরকারের পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের ক্ষমতার উৎস, কাঠামো ও চরিত্রের মৌলিক পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল। দলটির মতে, পুরোনো ক্ষমতা কাঠামোর বিলোপ সাধন করে অংশীদারত্বমূলক গণতন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে নতুনভাবে রূপান্তর করতে হবে। রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন এবং সাধারণ মানুষকে কেবল ভোটদাতা হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকর অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার তাগিদ দেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশিষ্ট সাংবাদিক সোহরাব হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, শোষণহীন সমাজ গঠনের দীর্ঘ লড়াইয়ের অঙ্গীকার নিয়ে এই দলের পথচলা শুরু হয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে কেবল রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচিকে সামনে নিয়ে আসা আদর্শিক অবস্থান থেকে এক ধরনের বিচ্যুতি। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া উল্লেখ করেন যে, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও সরকার কাঙ্ক্ষিত পথে এগোচ্ছে না। ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত রূপ পরিবর্তন করে একে বিকেন্দ্রীভূত না করলে রাষ্ট্র পুনরায় পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার শঙ্কা থাকে।
দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা রাষ্ট্র সংস্কার এখন আর কোনো একক রাজনৈতিক দলের দাবি নয়, এটি আজ সর্বস্তরের জনগণের জোরালো দাবিতে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত কোনো সংগ্রামের স্বপ্নই পুরোপুরি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি, তবুও সমাজ বদলের এই লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক হেলালুজ্জামান আহমদ মনে করেন, সংসদের উচ্চকক্ষে বিভিন্ন সামাজিক শক্তির সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেলে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ প্রতিষ্ঠিত হবে।
জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন জানান, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার ক্ষমতার হাতবদল ঘটলেও কাঠামোগত কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ মানুষের কার্যকর অংশগ্রহণ আজও নিশ্চিত করা যায়নি। সভাপতির বক্তব্যে তানিয়া রব জুলাই সনদের অঙ্গীকার ও গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।






















