Dhaka ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এইচএসসিতে পাসের হার শূন্য বা কম থাকা প্রতিষ্ঠান নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৩ Time View

শিক্ষা ডেস্ক: উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় যে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক কিংবা কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলোকে দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তার মাধ্যমে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। মূলত দেশের সামগ্রিক শিক্ষা খাতের মানোন্নয়ন এবং পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি জোরদার করার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ ধরনের ফলাফল বিপর্যয়কারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাব্যবস্থা ও পাঠদান প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় তদারকি ও শাস্তিমূলক বা সংশোধনীমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এর আগের বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাসের হারের প্রতিষ্ঠান বেড়েছে একানব্বইটি। অন্যদিকে, এই পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ১৩৯টি, যা শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য ও মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

এবারের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় সারা দেশ থেকে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সফলভাবে উত্তীর্ণ হতে পেরেছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী, যার ফলে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র বায়ান্ন দশমিক এক দুই শতাংশ। তবে পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ৪০ হাজার ৮৪ জন। এই সামগ্রিক ফলাফলের প্রেক্ষাপটে দুর্বল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই কড়া অবস্থান ভবিষ্যতে শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

এইচএসসিতে পাসের হার শূন্য বা কম থাকা প্রতিষ্ঠান নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

Update Time : ০৫:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

শিক্ষা ডেস্ক: উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় যে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক কিংবা কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলোকে দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তার মাধ্যমে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। মূলত দেশের সামগ্রিক শিক্ষা খাতের মানোন্নয়ন এবং পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি জোরদার করার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ ধরনের ফলাফল বিপর্যয়কারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাব্যবস্থা ও পাঠদান প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় তদারকি ও শাস্তিমূলক বা সংশোধনীমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এর আগের বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাসের হারের প্রতিষ্ঠান বেড়েছে একানব্বইটি। অন্যদিকে, এই পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ১৩৯টি, যা শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য ও মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

এবারের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় সারা দেশ থেকে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সফলভাবে উত্তীর্ণ হতে পেরেছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী, যার ফলে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র বায়ান্ন দশমিক এক দুই শতাংশ। তবে পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ৪০ হাজার ৮৪ জন। এই সামগ্রিক ফলাফলের প্রেক্ষাপটে দুর্বল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই কড়া অবস্থান ভবিষ্যতে শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।