অপরাধপ্রবণতা থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রেখে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে জেলা পুলিশের উদ্যোগে কাবাডি খেলার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত
- Update Time : ০৯:১৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১১৫ Time View
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি :: ব্রাহ্মণবাড়িয়ামাদক, কিশোর গ্যাং ও অপরাধপ্রবণতা থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রেখে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ঐতিহ্যবাহী লোকনাথ দীঘির পাড় (টেংকের পাড়) এলাকায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকার পুরুষ ও নারী কাবাডি দল অংশগ্রহণ করে। “মাদকদ্রব্য ত্যাগ করি, কিশোর গ্যাং নির্মূল করি—সুস্থ, সবল ও সুন্দর জীবন গড়ি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা ঘিরে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকার ১০টি পুরুষ ও ৬টি নারী কাবাডি দল অংশ নেয়। শুরু থেকেই প্রতিটি ম্যাচে দেখা যায় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দলগত সমন্বয় এবং চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্য। দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে অনুষ্ঠিত জমজমাট ফাইনাল খেলায় পুরুষ বিভাগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। একইভাবে নারী বিভাগেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা দল শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে শিরোপা ঘরে তোলে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, “তরুণ সমাজই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি ও ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, কিশোর গ্যাং ও অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটায় এবং একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, “খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার শিক্ষা দেয়। তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের সঙ্গে পুলিশের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। এ সময় বিজয়ী দলগুলোকে অভিনন্দন জানানো হয় এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকল খেলোয়াড়ের ক্রীড়া নৈপুণ্যের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।
এতে জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যবৃন্দ, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, ক্রীড়াবিদ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন।


























