Dhaka ১০:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাল্যবিবাহ ও যৌতুক-বিরোধী সচেতন মূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৫০৩ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি:: সকাল ১১ টার সময় কাশিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও ঋশিল্পীর ইন্টারন্যাশনালের যৌথ ভাবে বাল্যবিবাহ ও যৌতুক-বিরোধী সচেতন মূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মোহাম্মদ আরিফ হোসেনের সভাপতিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রানী সরকার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ সাইফুল ইসলাম উপপরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি সাতক্ষীরা, হাজিরা খাতুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালা, আরো উপস্থিত ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষকবৃন্দ , ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকবৃন্দ।

পরিবারের কর্তা নিজ হাতে তার কন্যার একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্ট করলেন। তিনি নিজেও ডুব দিলেন অমানসিকতার কালো অন্ধকারে। অপরিণত বয়সের মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার পর অধিকাংশ সময়ই প্রথম যে জিনিসটি সামনে আসে তা হলো, বিয়ের কিছুদিন পর স্বামীর বাড়ি থেকে মেয়েটি এসে আর স্বামীর বাড়ি ফিরতে চায় না। এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে আমাদের সমাজে। যখন তার পুতুল খেলার বয়স, তখনই যদি থাকে সংসার নামক শৃঙ্খলে বন্দি করা হয়, তাতে লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণই বেশি হয়ে থাকে।

যখন অভিভাবকরা কোনোমতেই বুঝিয়ে-সুঝিয়েও মেয়েকে আর স্বামীর বাড়ি পাঠাতে পারেন না; তখন সমাজপতিরা এ নিয়ে বিচার-সালিসে বসেন। অথবা মামলা, থানা, আদালত করে সময় কাটাতে হয় অভিভাবকদের।

প্রধান অতিথি বলেন অল্প বয়সে বেশির ভাগ মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ বাল্যবিবাহ। দেশে মা ও শিশুমৃত্যুর মূল কারণ ১৮ বছরের কম বয়সিদের মা হওয়া। কিশোরী মায়ের মৃত্যুঝুঁকি প্রাপ্তবয়স্ক মায়ের তুলনায় অন্তত চার গুণ বেশি বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এক বেসরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৬৫ শতাংশ কিশোরীর বিয়ে হয় ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই।
বাল্যবিবাহের কারণে মাতৃমৃত্যু কিংবা শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি হয়ে থাকে।

অনেক ক্ষেত্রে নাবালিকা মেয়ে মা হওয়ায় কীভাবে শিশুকে পরিচর্যা করবে; সে সম্পর্কে সম্মক জ্ঞান থাকে না। এর ফলে মা ও শিশুর মৃত্যু ঘটতে পারে। বাল্যবিবাহের কারণে নারীর প্রতি সহিংসতা, মাতৃমৃত্যু ও ঝুঁকি, অপরিণত গর্ভধারণ, প্রসবকালীন শিশুর মৃত্যুঝুঁকি, প্রজনন স্বাস্থ্য সমস্যা, নারীশিক্ষার হার হ্রাস, স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধি, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষমতা ও সুযোগ কমে যাওয়াসহ নানা রকম নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

পরিশেষে বলতে চাই, আপনার অপরিণত মেয়েকে আপনার অভিলাষের বলি বানাবেন না। তার বিয়ের খরচ, মালামালের খরচ বা পাত্রপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী যৌতুক যা দেবেন, তা দিয়ে মেয়েটির লেখাপড়ার খরচ জোগান। দেখবেন লেখাপড়া করে ওই মেয়েটিই একসময় নিজের পায়ে দাঁড়াবে। হয়তো সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে বড়মাপের কর্মকর্তা হবে। তখন তাকে বিয়ে করার জন্য সমাজের উন্নত পরিবারের ছেলেদের লাইন পড়ে যাবে। সরকার প্রতিটি শিশুকে শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসের ১ তারিখেই এখন নতুন বই দিচ্ছে, শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে। এ ছাড়া বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ তো আছে।

তাহলে কেন আপনার দুমুঠো অন্ন সাবাড় করছে বলে তাকে বাল্যবিবাহের পিঁড়িতে ঠেলে দিচ্ছেন? আসুন আপনি-আমি সবাই সচেতন হই এবং সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে বাল্যবিয়ে নামের ব্যাধিটা সমাজ থেকে চিরতরে বিদায়ের ব্যবস্থা করি।

মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বলেন অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েকে নিয়মিত স্কুলে পাঠাতে হবে এবং বাল্যবিবাহ না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন এবং সেই সাথে স্কুলের উন্নয়নের জন্য প্রধান অতিথির নিকট সুন্দর পাঠদানের জন্য একটি উন্নত মানের বিল্ডিং বা শ্রেণিকক্ষন দাবি করেন,সুপেও পানির জন্য ডিপ টিউবওয়েল, খেলার মাঠে মাটি ভরাট এবং দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় হওয়া সরকারের মাধ্যমে যেন এখানে একটি আশ্রায়ন প্রকল্প নির্মাণ করা তার জন্য দাবি করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বাল্যবিবাহ ও যৌতুক-বিরোধী সচেতন মূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়

Update Time : ০৮:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি:: সকাল ১১ টার সময় কাশিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও ঋশিল্পীর ইন্টারন্যাশনালের যৌথ ভাবে বাল্যবিবাহ ও যৌতুক-বিরোধী সচেতন মূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মোহাম্মদ আরিফ হোসেনের সভাপতিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রানী সরকার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ সাইফুল ইসলাম উপপরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি সাতক্ষীরা, হাজিরা খাতুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালা, আরো উপস্থিত ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষকবৃন্দ , ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকবৃন্দ।

পরিবারের কর্তা নিজ হাতে তার কন্যার একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নষ্ট করলেন। তিনি নিজেও ডুব দিলেন অমানসিকতার কালো অন্ধকারে। অপরিণত বয়সের মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার পর অধিকাংশ সময়ই প্রথম যে জিনিসটি সামনে আসে তা হলো, বিয়ের কিছুদিন পর স্বামীর বাড়ি থেকে মেয়েটি এসে আর স্বামীর বাড়ি ফিরতে চায় না। এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে আমাদের সমাজে। যখন তার পুতুল খেলার বয়স, তখনই যদি থাকে সংসার নামক শৃঙ্খলে বন্দি করা হয়, তাতে লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণই বেশি হয়ে থাকে।

যখন অভিভাবকরা কোনোমতেই বুঝিয়ে-সুঝিয়েও মেয়েকে আর স্বামীর বাড়ি পাঠাতে পারেন না; তখন সমাজপতিরা এ নিয়ে বিচার-সালিসে বসেন। অথবা মামলা, থানা, আদালত করে সময় কাটাতে হয় অভিভাবকদের।

প্রধান অতিথি বলেন অল্প বয়সে বেশির ভাগ মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ বাল্যবিবাহ। দেশে মা ও শিশুমৃত্যুর মূল কারণ ১৮ বছরের কম বয়সিদের মা হওয়া। কিশোরী মায়ের মৃত্যুঝুঁকি প্রাপ্তবয়স্ক মায়ের তুলনায় অন্তত চার গুণ বেশি বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এক বেসরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৬৫ শতাংশ কিশোরীর বিয়ে হয় ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই।
বাল্যবিবাহের কারণে মাতৃমৃত্যু কিংবা শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি হয়ে থাকে।

অনেক ক্ষেত্রে নাবালিকা মেয়ে মা হওয়ায় কীভাবে শিশুকে পরিচর্যা করবে; সে সম্পর্কে সম্মক জ্ঞান থাকে না। এর ফলে মা ও শিশুর মৃত্যু ঘটতে পারে। বাল্যবিবাহের কারণে নারীর প্রতি সহিংসতা, মাতৃমৃত্যু ও ঝুঁকি, অপরিণত গর্ভধারণ, প্রসবকালীন শিশুর মৃত্যুঝুঁকি, প্রজনন স্বাস্থ্য সমস্যা, নারীশিক্ষার হার হ্রাস, স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধি, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষমতা ও সুযোগ কমে যাওয়াসহ নানা রকম নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

পরিশেষে বলতে চাই, আপনার অপরিণত মেয়েকে আপনার অভিলাষের বলি বানাবেন না। তার বিয়ের খরচ, মালামালের খরচ বা পাত্রপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী যৌতুক যা দেবেন, তা দিয়ে মেয়েটির লেখাপড়ার খরচ জোগান। দেখবেন লেখাপড়া করে ওই মেয়েটিই একসময় নিজের পায়ে দাঁড়াবে। হয়তো সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে বড়মাপের কর্মকর্তা হবে। তখন তাকে বিয়ে করার জন্য সমাজের উন্নত পরিবারের ছেলেদের লাইন পড়ে যাবে। সরকার প্রতিটি শিশুকে শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসের ১ তারিখেই এখন নতুন বই দিচ্ছে, শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে। এ ছাড়া বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ তো আছে।

তাহলে কেন আপনার দুমুঠো অন্ন সাবাড় করছে বলে তাকে বাল্যবিবাহের পিঁড়িতে ঠেলে দিচ্ছেন? আসুন আপনি-আমি সবাই সচেতন হই এবং সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে বাল্যবিয়ে নামের ব্যাধিটা সমাজ থেকে চিরতরে বিদায়ের ব্যবস্থা করি।

মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বলেন অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েকে নিয়মিত স্কুলে পাঠাতে হবে এবং বাল্যবিবাহ না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন এবং সেই সাথে স্কুলের উন্নয়নের জন্য প্রধান অতিথির নিকট সুন্দর পাঠদানের জন্য একটি উন্নত মানের বিল্ডিং বা শ্রেণিকক্ষন দাবি করেন,সুপেও পানির জন্য ডিপ টিউবওয়েল, খেলার মাঠে মাটি ভরাট এবং দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় হওয়া সরকারের মাধ্যমে যেন এখানে একটি আশ্রায়ন প্রকল্প নির্মাণ করা তার জন্য দাবি করেন।