Dhaka ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইইউতে পোশাক রপ্তানিতে সুযোগ বাড়ছে বাংলাদেশের

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩১:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৪ Time View

অর্থনীতি ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে কম মূল্যের পোশাক ও ফ্যাশন পণ্যের ব্যবসায়িক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। স্বল্পমূল্যের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক এবং হ্যান্ডলিং ফি আরোপ করার কারণে চীন থেকে সরাসরি ছোট পার্সেলের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর ব্যবসা মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ নীতির ফলে ইউরোপের বাজারে চীনের অতি সস্তা পোশাকের সঙ্গে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য রপ্তানি বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অ্যাভিয়েশন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাভিয়ানের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে। ইইউর নতুন কড়াকড়ির কারণে চীন থেকে সরাসরি পণ্য সরবরাহের প্রচলিত লাভজনক মডেলটি এখন উচ্চ ব্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিয়ম অনুযায়ী স্বল্পমূল্যের আমদানি পণ্যের ওপর নির্দিষ্ট হারে শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে এবং প্রতিটি পার্সেলের ক্যাটাগরি অনুযায়ী এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এই অস্থায়ী ব্যবস্থাটি আগামী ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি আমদানি করা প্রতিটি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত হ্যান্ডলিং ফি চালুর ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অতিরিক্ত খরচের কারণে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে, যা সরাসরি ক্রেতাদের ওপর প্রভাব ফেলবে এবং সস্তা চীনা পণ্যের বাজার দখলকে সংকুচিত করবে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল জানান, কম দামি পণ্যের ওপর এই শুল্ক ও ফি যুক্ত হলে ক্রেতাদের জন্য খরচ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। মূলত চীনের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কারখানা থেকে সরাসরি ক্রেতার কাছে স্বল্পমূল্যের পণ্য পাঠিয়ে ইউরোপের বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল। কম দাম, দ্রুত সরবরাহ এবং ছোট চালানে বিক্রির সুবিধা ছিল তাদের ব্যবসার মূল ভিত্তি। কিন্তু নতুন শুল্ক কাঠামোর কারণে এই ব্যবসার খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো কম দামে পণ্য সরবরাহ করা তাদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ইতিবাচক একটি মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের রপ্তানিকারকরা সাধারণত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, খুচরা বিক্রেতা এবং বড় আমদানিকারকদের মাধ্যমে বিশাল চালানে পোশাক সরবরাহ করে থাকেন। চীনের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো ছোট ছোট পার্সেলে সরাসরি ক্রেতার কাছে পণ্য পাঠানোর ওপর বাংলাদেশের রপ্তানি ব্যবস্থা নির্ভরশীল নয়। ফলে ইউরোপের এই নতুন শুল্ক নীতির সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব দেশীয় পোশাক খাতের ওপর পড়ার আশঙ্কা খুবই কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় বাজারে অতি কম দামি পণ্যের দৌরাত্ম্য কমলে বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। ক্রেতারা এখন পণ্যের নির্ভরযোগ্যতা, গুণগত মান, সঠিক সময়ে সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম ও পরিবেশগত কমপ্লায়েন্সের বিষয়গুলোকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। এই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে দেশের পোশাক প্রস্তুতকারকদের উৎপাদন সক্ষমতার পাশাপাশি মানোন্নয়ন এবং মূল্য সংযোজনের ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে। নির্ভরযোগ্য এবং মানসম্মত সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পারলে দেশের তৈরি পোশাক খাত এই পরিবর্তনের সুফল নিজেদের অনুকূলে নিয়ে আসতে পারবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ইইউতে পোশাক রপ্তানিতে সুযোগ বাড়ছে বাংলাদেশের

Update Time : ০৯:৩১:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে কম মূল্যের পোশাক ও ফ্যাশন পণ্যের ব্যবসায়িক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। স্বল্পমূল্যের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক এবং হ্যান্ডলিং ফি আরোপ করার কারণে চীন থেকে সরাসরি ছোট পার্সেলের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর ব্যবসা মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ নীতির ফলে ইউরোপের বাজারে চীনের অতি সস্তা পোশাকের সঙ্গে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য রপ্তানি বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অ্যাভিয়েশন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাভিয়ানের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে। ইইউর নতুন কড়াকড়ির কারণে চীন থেকে সরাসরি পণ্য সরবরাহের প্রচলিত লাভজনক মডেলটি এখন উচ্চ ব্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিয়ম অনুযায়ী স্বল্পমূল্যের আমদানি পণ্যের ওপর নির্দিষ্ট হারে শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে এবং প্রতিটি পার্সেলের ক্যাটাগরি অনুযায়ী এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এই অস্থায়ী ব্যবস্থাটি আগামী ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি আমদানি করা প্রতিটি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত হ্যান্ডলিং ফি চালুর ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অতিরিক্ত খরচের কারণে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে, যা সরাসরি ক্রেতাদের ওপর প্রভাব ফেলবে এবং সস্তা চীনা পণ্যের বাজার দখলকে সংকুচিত করবে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল জানান, কম দামি পণ্যের ওপর এই শুল্ক ও ফি যুক্ত হলে ক্রেতাদের জন্য খরচ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। মূলত চীনের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কারখানা থেকে সরাসরি ক্রেতার কাছে স্বল্পমূল্যের পণ্য পাঠিয়ে ইউরোপের বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল। কম দাম, দ্রুত সরবরাহ এবং ছোট চালানে বিক্রির সুবিধা ছিল তাদের ব্যবসার মূল ভিত্তি। কিন্তু নতুন শুল্ক কাঠামোর কারণে এই ব্যবসার খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো কম দামে পণ্য সরবরাহ করা তাদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ইতিবাচক একটি মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের রপ্তানিকারকরা সাধারণত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, খুচরা বিক্রেতা এবং বড় আমদানিকারকদের মাধ্যমে বিশাল চালানে পোশাক সরবরাহ করে থাকেন। চীনের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো ছোট ছোট পার্সেলে সরাসরি ক্রেতার কাছে পণ্য পাঠানোর ওপর বাংলাদেশের রপ্তানি ব্যবস্থা নির্ভরশীল নয়। ফলে ইউরোপের এই নতুন শুল্ক নীতির সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব দেশীয় পোশাক খাতের ওপর পড়ার আশঙ্কা খুবই কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় বাজারে অতি কম দামি পণ্যের দৌরাত্ম্য কমলে বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। ক্রেতারা এখন পণ্যের নির্ভরযোগ্যতা, গুণগত মান, সঠিক সময়ে সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম ও পরিবেশগত কমপ্লায়েন্সের বিষয়গুলোকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। এই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে দেশের পোশাক প্রস্তুতকারকদের উৎপাদন সক্ষমতার পাশাপাশি মানোন্নয়ন এবং মূল্য সংযোজনের ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে। নির্ভরযোগ্য এবং মানসম্মত সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পারলে দেশের তৈরি পোশাক খাত এই পরিবর্তনের সুফল নিজেদের অনুকূলে নিয়ে আসতে পারবে।