ডিজি অফিসে রনির অদৃশ্য শক্তি! মাসোয়ারা কেলেঙ্কারিতে এএসআই আমেনার ভয়েস ফাঁস করে দিল গোপন চক্র
- Update Time : ০৮:০৯:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
- / ৭৮ Time View
নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ::মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ময়মনসিংহ বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় কি সত্যিই মাদক দমন করছে—নাকি মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গোপন আঁতাত, মাসোয়ারা বাণিজ্য এবং “সেফ জোন” সৃষ্টির অন্ধকার চক্রে পরিণত হয়েছে?
বহুদিন ধরে স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরে বেড়ানো অভিযোগ এবার ভয়ংকর বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ২০ নভেম্বর ফাঁস হওয়া এক ভয়েস রেকর্ডে ডিএনসির এএসআই আমেনা বেগম নিজ মুখে স্বীকার করেছেন—পরানগঞ্জের অবৈধ মদপল্লী থেকে তিনি নিয়মিত মাসোয়ারা নেন! –কথোপকথনের অপর প্রান্তে থাকা মদ ব্যবসায়ী অমলকে গালাগালি, হুমকি, মাসোয়ারা আদায় এবং অপকর্মের বর্ণনা—সবকিছুই উঠে এসেছে অডিওটিতে। শোনা যায়—“আগে যা দিছস, এবারও তাই দিবি!
আমার লাইনে চলবি—না হলে মামলা হইব!” ফাঁস হওয়া অডিও জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন—“যে বাহিনী দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদক থেকে রক্ষা করার কথা, সেই কর্মকর্তারাই যদি মদপল্লীর মাসোয়ারা খেয়ে বাঁচেন—তাহলে রাষ্ট্রকে রক্ষা করবে কে?”
অডিও ফাঁসের পর উন্মোচিত আরেক ভয়ংকর সত্যঃ রনির ডিজি অফিসে ‘অদৃশ্য ক্ষমতার ছাতা’!–এএসআই আমেনা অডিওতে ভয় পেয়ে মিনতি করতে করতে বলেন—“ভাই, রনি শুনলে আমার চাকরি চলে যাবে। রনির ডিজি অফিসে বড় কর্মকর্তার সঙ্গে খুব সখ্যতা আছে! যে কাউকে বদলি করে দিতে পারে। ইতিমধ্যেই নিরপরাধ একজনকে খাগড়াছড়ি বদলি করাইছে। ভাই,আমার চাকরি খাইয়েন না…”
–এই কথাগুলো থেকেই স্পষ্ট—মাদক দমনকারী বাহিনীর অভ্যন্তরে একটি অদৃশ্য শক্তিশালী সিন্ডিকেট বহুদিন ধরেই সক্রিয়। ডিজি অফিস পর্যন্ত প্রভাব বিস্তারকারী এই সিন্ডিকেট—শাস্তির ভয় দূর করে–অধীনস্থদের দিয়ে মাসোয়ারা কালেকশন করায়! নিজ জেলার গডফাদারদের সুরক্ষা দেয়! যাকে খুশি বদলি করার ক্ষমতা দেখায়! এএসআই আমেনার ভয়,কাঁপা কণ্ঠে মিনতি—এই সিন্ডিকেটের ভয়ংকর ক্ষমতার নির্মম প্রমাণ।–অভিযোগের কেন্দ্রে সহকারী পরিচালক কাওসারুল হাসান রনি! রনির বাড়ি—ময়মনসিংহের ত্রিশাল! এএসআই আমেনার বাড়ি—ঈশ্বরগঞ্জ! এএসআই ফারুকের বাড়ি—নান্দাইল! একই জেলার তিন কর্মকর্তা–কর্মচারী বছরের পর বছর একই জেলায় থেকে একটি ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি করেছেন—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—
“নিজ জেলায় পোস্টিং পেয়ে কি তারা মাদক গডফাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে দুর্নীতির সাম্রাজ্য বানিয়েছেন?” অনেকে বলছেন—
“এত বিপুল দুর্নীতি একদিনে হয়নি। তাহলে কর্তৃপক্ষ এতদিন কোথায় ছিল? দেখেও কি না দেখার ভান করা হয়েছে?” ১.গডফাদারদের সুরক্ষা—‘মাসোয়ারা নিলেই সেফ জোন’ ঘোষণা! ময়মনসিংহ শহর ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ২০ জন কুখ্যাত মাদক গডফাদারকে মাসোয়ারার বিনিময়ে “নিরাপদ এলাকা” ঘোষণা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। তালিকায় রয়েছে–ময়না-বুচি,নজরুল-
নাজু,ডালিয়া,রুমা,রুজি,স্মৃতি,কুদু,হামে,রেহেনা,দুখিনী,সুরমা,সুবর্ণা-দেলু, মোখলেস,আনু,হাফিজুল,মোফাজ্জল, আহাদ, কাইয়ুমসহ আরও অনেকে। মাসোয়ারার টাকা ভাগ হতো—এএসআই ফারুক,এএসআই মাহাবুব,সিপাহি পাবেল,সিপাহি সোহেলের মধ্যে।
২.নিজ জেলার মাদক ব্যবসায় অন্ধত্ব—বাইরের জেলায় ‘সাফল্যের নাটক’! রনি নিজের জেলায় থেকে গডফাদারদের সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিয়েছেন—এমন অভিযোগ পুরনো। বেশিরভাগ মামলাই করা হয়েছে বাইরের জেলায়—যাকে বলা হচ্ছে “ফাইল সাফল্যের নাটক”। ৩.উদ্ধার ও মামলার অমিল—‘উদ্ধারের বড় অংশ কোথায় যায়?’
উদাহরণঃ উদ্ধার ২০ কেজি গাঁজা–মামলায় ১৮ কেজি! উদ্ধার ২,০০০ ইয়াবা–মামলায় ১,৯৫০টি!
–নগদ টাকাও কম দেখানোর অভিযোগ! জনমনে প্রশ্ন—“বাকি অংশ কার পকেটে গেল?” ৪.অধীনস্থদের হঠাৎ সম্পদবৃদ্ধি—“বেতনে কীভাবে সম্ভব?” বিশেষ করে এএসআই ফারুকের—শম্ভুগঞ্জে জমি,গোয়ালকান্দিতে ১৬ শতক,সানকিপাড়ায় বাড়ি,নিজ গ্রামে আলিশান ভবন! সচেতন মহলের মন্তব্য—“এএসআইয়ের বেতনে এসব হয় না—এটাই দুর্নীতির বড় প্রমাণ।”
৫.রনির ব্যক্তিজীবনেও ঝড়—স্ত্রীর মামলা ও বিচ্ছেদ! পারিবারিক সূত্র বলছে—রনির ব্যক্তিজীবনে নানা অভিযোগ ও অস্থিতিশীলতা ছিল। কথা উঠছে—“নিজ পরিবারই যখন সামলাতে পারেননি—রাষ্ট্রের তরুণ সমাজকে কীভাবে রক্ষা করবেন?” ৬.দীপ পুনর্বাসন কেন্দ্র বন্ধ—পরিচালকের বিস্ফোরক অভিযোগ। জেলা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান দীপ পুনর্বাসন কেন্দ্র বন্ধে রনির ‘মনগড়া রিপোর্ট’ দায়ী—এমন অভিযোগ করেছেন পরিচালক মো. আরিফ সিদ্দিকী (সুমন)। তিনি বলেন—“রনি আমার শত্রুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কেন্দ্র বন্ধ করিয়েছে।”
সরজমিনে দেখা গেছে—অন্য পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে ভয়ংকর অনিয়ম থাকলেও সেখানে কোনো অভিযান নেই। কারণ—সেখান থেকেও আসে মাসোয়ারা! নাগরিক সমাজ বলছে— “এটি রাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।” এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জনমতের জোর দাবি—অবিলম্বে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত! তদন্তের দাবিসমূহঃ ১.এএসআই আমেনার ভয়েস রেকর্ডের ফরেনসিক বিশ্লেষণ। ২. রনির দায়ের করা সব মামলার রিভিউ।৩. উদ্ধার ও জব্দ তালিকার পূর্ণ অডিট।৪. এএসআই ফারুক-মাহাবুবসহ সংশ্লিষ্টদের সম্পদ তদন্ত। ৫. সহকারী পরিচালক রনিকে অবিলম্বে অপসারণ। ৬. পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর লাইসেন্স–বেড–অনুমোদন সংক্রান্ত ঘুষ চক্রের তদন্ত।–অভিযুক্তদের অস্বীকার—কিন্তু প্রশ্নের পাহাড়! রনি ও তার টিম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু—ভয়েস রেকর্ড,উদ্ধার-মামলার অমিল,গডফাদার সুরক্ষা,হঠাৎ সম্পদবৃদ্ধি, নিজ জেলায় বছরের পর বছর পোস্টিং! ডিজি অফিসে অদৃশ্য প্রভাব! নিরপরাধকে খাগড়াছড়িতে বদলি! চুরির অভিযুক্তকে কিশোরগঞ্জে (ভৈরবে)প্রাইজ পোস্টিং!
পুনর্বাসন কেন্দ্র বন্ধের প্রশ্নবিদ্ধ রিপোর্ট! এসব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের দাবি—“মাদক দমনের নামে দুর্নীতির সাম্রাজ্য ভেঙে দিন—নইলে জনগণের আস্থা চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।” জাতীয় নিরাপত্তার সংকট! এটি শুধু একটি জেলার সমস্যা নয়—এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঘোষণা করা এক নীরব যুদ্ধ। জনগণের বার্তা পরিষ্কার—“মাদক দমনের নামে দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভেঙে দিন—না হলে দেশে মাদক ব্যবসাই সরকারি লাইসেন্স পেয়ে যাবে!”




















